করোনা দীর্ঘমেয়াদী হলে আমরা কি করবো?
করোনা ভাইরাস সহজে এবং সহসাই যাবে না। গেলেও আবার ফিরে আসবে। তাই যারা সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন, একটু ভেবে দেখবেন। ভারত সরকার লকডাউনে বেশ কঠোর ছিল এখনো আছে। করোনা নিয়ন্ত্রোণ না হয়ে বরং এখন ভারত সম্ভবত আক্রান্তের দিক থেকে ৫/৬ এ আছে। মৃত্যুর তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। অনেক দেশে লকডাউন আরো কঠোর ছিল। অনেকটা কারফিউর মত। কাজ তেমন হয়নি। নিউজিল্যান্ড করোনামুক্ত ঘোষণা করে আবারো আক্রান্তের তালিকায় এসেছে। চীনেও ফিরে এসেছে। যে দেশে একজনও মারা যায়নি, ওখানেও যাবে এই করোনা। এই ভাইরাস মানব সৃষ্ট হোক আর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হোক, এ থেকে বড় সহজে মুক্তি মিলবে না। স্প্যানিশ ফ্লু ২ বছর ছিল। বিশ্বের ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল।
আমি সরকারের গুনকীর্তন করছি না বা ঐ ইচ্ছেও আমার নেই। সরকারের উচিৎ ছিল সাধারণ ছুটি না দিয়ে কঠোর লকডাউন দেয়া। তবে এতে কতটা কাজ হত সেটা ভারতকে দেখে অনুমান করে নিতে পারেন।
এই ভাইরাসের প্রকোপ যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় (খোদা না করুক) তবে কি করবেন? হাত পা গুটিয়ে বসে বসে খাবেন? এভাবে বিশ্বেরে কোনো উন্নত দেশও পারবে না তার দেশের
জনগণকে আশ্বাস দিতে যে তোমরা ঘরে থাকো, আমরা সব দেব। কানাডার প্রধানমন্ত্রী ত সব দায়িত্ব নিলেন। তবে তার দেশে কেন ৯ হাজারের মত মৃত্যু?
কথাগুলো এজন্য বললাম যে, বেঁচে থাকতে হলে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। তবে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে। কারণ আপনার নিজের এবং পরিবারের করোনা থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার উপর। আপনি আক্রান্ত হলে আপনার পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হতে পারেন সহজেই। একটি পরিবার আক্রান্ত হলে একটি পাড়া বা মহল্লা বা গ্রাম আক্রান্ত হতে পারে। একটি গ্রাম আক্রান্ত হলে একটি দেশ আক্রান্ত হওয়া বেশি দূরে নয়। গ্রাম নিয়েই ত দেশ। আর শহরাঞ্চলে আরো বেশি সতর্ক থাকুন। ঘনবসতি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আজ আমি লিখছি। কাল নাও লিখতে পারি। কেননা আমার পাশেও করোনা এসে গিয়েছে। সব প্রকাশ পায় না আর গোপনও থাকে না।
এ জাতীয় সংক্রমণে মাস্কের গুরুত্ব অপরিসীম। স্প্যানিশ ফ্লুতে মাস্ককে ডিনাই করে এত বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। রাস্তাঘাটে অনেককে দেখি মাস্কের কোনো বালাই নেই। এটি ভুল। অধিকাংশ জীবাণু বাতাসে ভেসে আসে। পানি মাধ্যমে যেগুলো আসে, ওদের রেমিডি আছে। এই যে বললাম বিশ্বেরে কোনো দেশ রেহাই পাবে না এজন্য যে, বাতাস নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানুষের নেই। দয়া করে সবাই মাস্কের ব্যবহার অপরিহার্য করে তুলুন।
ঘরের জানালা দরজা খোলা রেখে কোনো কোয়ারেন্টাইন হয় না। আমি ডাক্তার, গবেষক কিছুই নই, তবুও আবার বলছি, ঘরের জানালা দরজা খোলা রেখে কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন হয় না। কারণ বিজ্ঞান এটা ত স্বীকার করেছে যে এই ভাইরাস বাতাসে বেশ কয়েক ঘন্টা বেঁচে থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে বায়ুমাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে। আপনার মাস্ক থাকলে এবং পর্যাপ্ত সেনিটাইজেশন মেইন্টেইন করলে আক্রান্ত নাও হতে পারেন। বাইরে থেকে ঘরে গিয়ে সোজা বাথরুমে যান। ঘরের কিছুই ধরবেন না। সাবান দিয়ে গোসল করুন। ঘরের অন্য কাউকে বলুন আপনাকে বাথরুম পর্যন্ত কাপড় এগিয়ে দিতে। সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে বের হোন। ইনশাল্লাহ আপনি করোনা ভাইরাসমুক্ত থাকবেন।
ভাল থাকুন সবাই। ভাল থাকুক বাংলাদেশ।
Comments