ভারত-চীন সুড়সুড়িঃ
চীনের বিরুদ্ধে ভারতের কড়া জবাবের প্রস্তুতি। বাঃ। আর চীন মনে হয় হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবে। এই পর্যন্ত চীন তার সীমান্তে যে সৈন্য ও রসদ পাঠিয়েছে তাতে ভারতে আরো বড় অংশ হাতছাড়া হতে পাবে। তবে নাকবোচা এই জাতিকে আমি সমর্থন করিনা বা পছন্দও করিনা।এরা বরাবরই হিংস্র। যখন গোলাবারুদ ছিল না, তখন এই নাকবোচা প্রজাতির চেংগিস খানের হাতে পৃথিবীর প্রায় দেড় কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। আর এখন ত সুপারসিনিক অস্ত্র আছে তাদের হাতে। চীনের প্রেসিডেন্টের নীরবতা আর মোদিজির মিথ্যাচার থেকে দুজনের শক্তির স্পষ্ট পার্থক্য বুঝা যায়।
ভারত ইতোমধ্যে নেপাল আর পাকিস্তানের সমর্থন হারিয়েছে। বাংলাদেশে ৫-১০% মানুষের সমর্থন রয়েছে তাদের প্রতি। মোদিজির মিথ্যাচারে সেইটুকুও না হারিয়ে বসে ভারত!
চীন বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক সুবিধা দিয়েছে। এতে ভারতে গোটা মিডিয়া দুনিয়ায় গা জ্বালা শুরু হয়েছে। আবোল তাবোল লেখালেখি থেকে তা প্রমাণিত হয়। ভারতের সাথে যুদ্ধে চীনের পক্ষে বাংলাদেশকে কেন প্রয়োজন হবে? হবে না। এই বিন্দুও না।
১৯৬২ সালের আমেরিকা, বৃটেন ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন সহ তাবৎ শক্তিশালী দেশের সমর্থন নিয়েও ভারত পরাজিত হয়েছিল। তখনকার অস্ত্র আর সৈন্যের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। চীন বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় বরাদ্দ করে আসছে। ভারত সৈন্য ও অস্ত্রসম্ভার বাড়িয়েছে সত্য, তবে চীনের পক্ষে তা কতটুকু কার্যকর হবে। তাই এই মুহুর্তে অযথা চীনকে ঘাটানোর পরিণতি শুভ নাও হতে পারে। গালওয়ান প্রদেশ ভারতের অংশ। চীন যতটুকু ভেতরে ঢুকেছে সেখান থেকে আলোচনা ছাড়া তাদের বের করে দেওয়ার ক্ষমতা মোদি সরকার তথা ভারতের আছে বলে মনে করি না। ভারতের মনে রাখা উচিৎ যে, ওটা চীনের সীমান্ত, বাংলাদেশের নয়।
বাংলাদেশ ফুঁসে ওঠে না একাত্তরে অবদান রাখার জন্য। তবে তখনও ভারত না এলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত। হয়ত কিছু দেরি হত। এখনকার প্রজন্ম হয়ত জানেই না যে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে ভারত ৭১ এর ডিসেম্বরের ৪ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করেছিল। আর বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছিল ৯ মাস। তবে এর পূর্বে পাকিস্তানকে ভেঙ্গে দুর্বল করার জন্য যা যা করার, এর সব কিছুই করেছিল ভারত। শরনার্থীদের শেল্টার দিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল। বিশ্বে জনমত তৈরিতে সহায়তা করেছিল। তবে মুক্তিযোদ্ধারাই পাকিস্তানিদের পরাস্ত করে দিয়েছিল। ওদের আত্ম সমর্পনের প্রাক্কালে ভারত প্রত্যক্ষ ভুমিকা নিয়ে মাতব্বর সেজেছিল। আর এসব কারণে বাংলাদেশের মানুষ ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে যুদ্ধে বাংলাদেশ শতভাগ নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে এটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবে কোনো যুদ্ধের পক্ষে নয়, শান্তির পক্ষে।
Comments