একটা ভুল ভাবনা হয় আমার নয় আপনারঃ

[যারা পড়বেন, দয়া করে পুরো লেখাটা মন দিয়ে পড়বেন। মতে অমিল হলে দয়া করে কমেন্টে জানিয়ে দেবেন। আমি শুধরে নেব।]

ইদানিং ধর্ষণের মাত্রা বেড়েছে। তবে ধর্ষণ অতীতে মানে সব যুগে সব কালে ছিল। ভবিষ্যতে কি হবে জানিনা। তবে ধর্ষণ সম্পর্কে ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ জানতে হবে বৈকি।

তিনবেলা খাবার না হলে যেমন চলে না, তেমনি পত্রিকার পাতাগুলো ধর্ষণের খবর ছাড়া পানসে লাগে ঠিক যেন লবণ ছাড়া তরকারি। অতীত থেকে আরো অতীতে আরো বেশি ধর্ষণ হয়েছিল ইতিহাস সাক্ষী দেয়। মানব সভ্যতার ইতিহাস যতদূর জানা যায় ধর্ষণ/অত্যাচার মেয়ের ভূষণ বলা চলে। সভ্যতার শুরু হয়েছে ক্ষমতা তথা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে। এক গোষ্ঠীর অন্য গোষ্ঠীর উপর কর্তৃত্ব, এক জাতি অন্য জাতির উপর কর্তৃত্ব, এবং বিজয়ীদের হাতে নারী হয়েছে ভোগের বলি। সেকালে রাজা জমিদারদের মহলে নারীদের রক্ষিতা হিসেবে রাখা হতো দৈহিক চাহিদা মেটানোর জন্য। যখন দাসব্যবসা চলত তখন সুন্দরী মেয়েদের কিনে নেওয়া হতো। নারী ছিল নেশার দ্রব্য। দুপক্ষের মধ্যে লড়াই হলে কেউ জিতে যেত গণধর্ষণ করার লটারি। নিরেট প্রমাণ মেলে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে। আর এর আগের ইতিহাসে গেলে আমার এই স্ট্যাটাসটা বেশি দীর্ঘ হয়ে যাবে। আর এখন মানুষ বেশি লেখা পড়তে ভয় পায়। তবে অতীত কমবেশি সবার জানা আছে বা একটা ধারনা রয়েছে।

বর্তমানে মানুষ সভ্যতার চরম শিখরে আরোহণ করেছে। তবে ধর্ষণের কলাকৌশল পালটায়নি। এখনো যুদ্ধবিধবস্ত অঞ্চলে অতীতের মতই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সিরিয়া, লিবিয়া কাশ্মীর ইত্যাদিতে এখনো আদিম কাজকর্ম এখনো আগের মতই চলছে। তবে পুরুষের রুচি বদলেছে অনেক। যুদ্ধ বিধবস্ত এলাকায় অনেক পুরুষ সুযোগ পেলেও ধর্শণ করে না। এখানে পুরুষের রুচি কাজ করে।

বাংলাদেশ পুলিশ: গত বছর ৫ হাজার ৪০০ নারী এবং ৮১৫টি শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণের মামলা ছিল ৭২৭টি এবং নারী ধর্ষণের মামলা ছিল ৩ হাজার ৯০০টি। পুলিশের হিসাব বলছে, গত বছর ধর্ষণের কারণে ১২ শিশু এবং ২৬ জন নারী মারা যান। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ২১ নারী ও ১৪ শিশু।

বাংলাদেশ পুলিশ: গত বছর ৫ হাজার ৪০০ নারী এবং ৮১৫টি শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণের মামলা ছিল ৭২৭টি এবং নারী ধর্ষণের মামলা ছিল ৩ হাজার ৯০০টি। পুলিশের হিসাব বলছে, গত বছর ধর্ষণের কারণে ১২ শিশু এবং ২৬ জন নারী মারা যান। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ২১ নারী ও ১৪ শিশু।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক): আসকের ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। গত বছর সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১ হাজার ৪১৩ নারী ও শিশু। ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল ৭৩২।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন: গত বছর ৯০২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৫৬।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম: ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে ৮৪টি শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এ ছাড়া এক বছরে যৌন নির্যাতন বেড়েছে ৭০ শতাংশ। গত বছর যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ১ হাজার ৩৮৩ শিশু। ২০১৮ সালের চেয়ে গত বছর শিশু ধর্ষণ ৭৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০ সাল এখনো পুরো হয়নি। তাই সঠিক উপাত্ত দেয়া ঠিক হবেনা।

বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে শুরু করে ডেইলি স্টার পর্যন্ত কোন পত্রিকা বাদ যায়না প্রতিদিন ধর্ষণের কুৎসিত নিউজ থেকে। মাত্র ২/১ বছর আগে ফিরে তাকালেই তনু হত্যা, নুসরাত হত্যার ঘটনা আপনার গায়ে কাঁটা দিবে। দুটো সর্বোচ্চ আলোচিত ধর্ষণ হত্যা মামলা। এদেশের মানুষের কাছে ধর্ষণ শব্দটি এত পরিচিত হয়ে গেছে যে শিশুরা অ- তে অজগর শেখার আগে ধ- তে ধর্ষণ শিখে নেয়। এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে কি না অনিশ্চিত যে জীবনে একবারও কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হয়নি। অতীতে তো কিশোরী বয়সী বা নারীরা ধর্ষিত হত। এ শতাব্দীতে তো পাঁচ মাসের শিশু ধর্ষিত হচ্ছে। একটা সমাজ/দেশ কিভাবে এগিয়ে যাবে যদি সেখানে চার শতাংশ নারী নিয়মিতভাবে নিগৃহীত, ধর্ষিত হয় তাদেরই পুরুষালে দ্বারা। যে সেক্টরেই যাওয়া হয়না কেন ভায়োলেশন আগাইনস্ট ওম্যান আপনার চোখে পড়বেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতি নিরাপত্তার গন্ডিতেও ধর্ষকদের কালোছায়া বিরাজমান। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় আর ঘরের কাজ থেকে অফিসের কাজ প্রত্যেক ক্ষেত্রে যেমন মেয়েদের প্রবেশাধিকার বেড়েছে সমানুপাতিক হারে ধর্ষণকেও সঙ্গে নিতে হচ্ছে।

লজ্জার বিষয় হল গ্রামের অশিক্ষিত মূর্খ মেয়েটা যেমন সমাজের ধিক্কারে ধর্ষিত হয়েও মুখ চেপে থাকে। একইভাবে শহরের লেখাপড়া জানা নারী অধিকার সচেতন মেয়েটাও কোন না কোন ভাবে ধর্ষিত হয় আর তাদের ”সোসাইটি ও প্রেস্টিজ” বজায় রাখার জন্য মূক হয়ে থাকে। এজন্যই আমরা এগিয়ে গিয়েও পিছিয়ে পড়ছি। বিষয়টা মেয়েদের মনমগজে এমনভাবে গেথে গেছে যেন তাদের এটুকু সহ্য করতে হবে। আইনের কথা পরে ভাবলেও চলবে। আগে তো স্বরূপটা বুঝি –

আজকাল ধর্ষকেরা সেলিব্রিটি হয়ে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কেউ তো আবার ধর্ষণের পর হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরিচিত হয়। ব্যাপারটা কত সহজ সেটা

ভারতের রাম রহিমের ঘটনা থেকে বোঝা যায়। চল্লিশোর্ধ একটা মানুষ সাধু সেজে তার আস্তানায় একের পর এক ধর্ষণ করে গেছে। পুলিশ তাকে যখন হাজতে নিল বেশকিছু শ্লীলতাহীন মানুষ মিছিল করা শুরু করে রাম রহিমের জামিনের। অথচ তার আস্তানায় হাজার হাজার কনডম পেয়েছিল পুলিশ। জেলে বসেও সে নারী সহচর্য চাইত। ভারতের ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার কিছু নেই। কেননা হাজারো রাম রহিম বাংলাদেশের অলিতে-গলিতে আর দামি গাড়িতে বসে আয়েশে থাকে। এরা গ্রেপ্তার হয়না বলে আমজনতা তাদের খোজ জানেনা।

এই শতাব্দীতে নারী যেমন এভারেস্ট জয় করে এসেছে তেমনি ঘরে ফেরার আগে ধর্ষিত হয়ে ফিরেছে। অতীতের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ধর্ষিত হচ্ছে। রবি ঠাকুরের মতে নারী দেবী! দেবীকে পূজো করো। কিন্তু নারী এখন দেবীর আসন ছেড়ে ———- পরিণত হয়েছে। একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া যার নিয়ম। আচ্ছা তাহলে শিশু ধর্ষণ করে কি করে!! একটা মানুষের মস্তিষ্ক কতটা বিকৃত হলে কয়েক মাসের শিশুকে নিজের কামের শিকার করতে পারে! হ্যাঁ সভ্যতার সবরকম উন্নয়ন যখন আমাদের হাতের মুঠোয় তখন ক্যান্সারের মতন সমাজকে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে ধর্ষণের কিটগুলো।

কোনো কিশোর, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ ধর্ষণ নামক বিশেষ পশু প্রবৃত্তি সরাসরি চরিতার্থ করতে পারে না যদি না অপরপক্ষ থেকে কোনো না কোনোভাবে প্রচ্ছন্ন সম্মতি থাকে। বলপূর্বক যেসব ধর্যণ হয়, তার অধিকাংশই প্রকাশ পায় না। অধিকাংশ মেয়েদের ধর্ষণ কমবেশি শিশু বয়স থেকেই শুরু হয়। তাই ধর্ষণের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

একটা মেয়ে শিশুর প্রথম ধর্ষণ শুরু হয় পরিবার থেকে। (আমরা সকল নরনারী আমাদের চরিত্র সম্পর্কে জানি) কিভাবে সেটা নিজে চিন্তা করুন। খুব নিকটাত্মীয়ও ধর্ষক হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাবাও ধর্ষকে ভুমিকায় নামে। আর বলতে ঘৃণা লাগছে। তবে এসব ধর্ষণের বেশির ভাগই প্রকাশ পায় না। কেন প্রকাশ পায় সে সহজে অনুমেয়।

এর বাইরে যেসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটে সেগুলো বৈশিষ্ট্য একই ধরনের নয়। এখানে একটা প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় বা মৌন সম্মতি কাজ করে। ছেলে মেয়েতে বন্ধুত্ব করেছে। গোপনে কোথাও বেড়াতে গিয়েছে। তারপর মোম ত আগুনে গলবেই। মোম জ্বলে যাবার পর যে অবশিষ্ট থাকে তার নাম হয় সালিশ, মামলা মকোদ্দমা।

ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়াতে পিরীতির নামেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ার ইনবক্সে নরনারীতে যা ঘটে এটাও এক ধরণের ব্যভিচার। কপালগুণে এমন অনেক ইনবক্স দেখতে হয়েছে বলে বলতে পারছি। মেয়েটি হয়ত আপ্যায়ন বা দেখা করতে ছেলেটির সাথে কোথাও গেল। তাতে ছেলেটি একটু বল প্রয়োগ করে যা করল তার নাম ধর্ষণ। কিন্তু এর জন্য আমি ছেলেকে যতটুকু দোষ দিই, তার চেয়ে অনেক বেশি দোষ দিই মেয়েটিকে। কেন একজন মেয়ে একজন ছেলের সাথে বন্ধুত্ব বা আলগা পিরীতের নামে দেখা করতে যাবে? আর নারী পুরূষ যদি সমান অধিকার আর সমান হয়, তবে ধর্ষণ রইল কই? এক্ষেত্রে পুরুষও ধর্ষণের শিকার হতে পারে। আইন অবশ্যই সব সময় নারীদের অনুকুলে। তবে একটা কথা বলে রাখি কোনো বয়স, কোনো শ্রেণি পেশার মানুষ এই পশু প্রবৃত্তির উর্ধেব নয়।

আর ভবিষ্যৎ সে এখনো মাতৃগর্ভে। তবে এর তীব্রতা বাড়বে বৈ কমবে না।

যা করা প্রয়োজনঃ আপনার সন্তাণকে শুধু শিক্ষা নয়, এমনভাবে সুরক্ষা দিন যাতে সে পারিবারিক, সামাজিক বা অন্য যেকোনো কারণে ধর্ষণের শিকার না হয়। তবে স্বেচ্ছাচারী নারীদের বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। সবাই ধর্ষণের বিরূদ্ধে সোচ্চার হোন।

লেখকঃ এম আর

Comments

Popular posts from this blog

৫৪৩ দিন পর খুলছে স্কুল-কলেজ

আইন জেনে বিয়ে করুন

Let me tell a story: একটা গল্প বলি