পল্লবীতে থানায় হামলার দায় স্বীকার আইএসের
রাজধানীর পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ২৯ জুলাই, বুধবার রাতে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ তাদের ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানায়।
সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কাটজ এক টুইটে লিখেছেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পুলিশের একটি দপ্তরে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
তিনি আরো জানান, ঈদুল আজহার আগে নতুন লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ঢাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে আইএস। এর আগে ২০১৯ সালের আগস্টের পর ঢাকায় আইএসের এটাই প্রথম হামলা বলেও উল্লেখ করেন রিটা।
এর আগে বুধবার সকালে মিরপুর এলাকার পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্যসহ একজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতাল এবং চক্ষু হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় কোনো ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা’ নেই বলে দাবি করেছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। বুধবার পল্লবী থানা ভবন পরিদর্শনের পর এসব কথা জানান তিনি। কিন্তু আজ রাতে আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করলো।
তিনি আরো বলেন, ‘পল্লবী থানা পুলিশ ও মিরপুরের ডিবির নেতৃত্বে একটা টিম কাজ করছিল কয়েকদিন ধরে। এ অঞ্চলে মাঝে মাঝে ক্রাইম হয় নানা ধরনের। একটি গ্রুপ ক্রাইম করতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত রাত ২টার দিকে কালশী কবরস্থানের দিকে পুলিশের একটি টিম যায়। সেখানে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ সমবেত হয়ে ক্রাইম করার পরিকল্পনা করছে- এমন খবরে পল্লবী থানা পুলিশ সেখানে অপারেশনে গিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন— রফিকুল ইসলাম, শহীদুল ও মোশারফ।’
পুলিশের এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘সেখানে আরো কয়েকজন ছিল যারা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। একটি ডিভাইস উদ্ধার করা হয় যেটি ওয়েট মেশিনের মতো। ওজন মেশিনের মতো কোনো জিনিস কেন তাদের কাছে থাকবে, সেটা কী প্রশ্ন ওঠায় রাতেই বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট থানায় চলে আসে। তারা ওই ডিভাইসটিকে স্টাডি করে। সেটা দেখার পর তারা আরো বিশদভাবে ডিভাইসগুলো খতিয়ে দেখতে কিছু পর্যবেক্ষণ মেশিনসহ ইউনিটের অন্য সহকর্মীদের আসার খবর দেয়। তারা যখন আরও পর্যবেক্ষণ মেশিন নিয়ে আসছিল তখন থানার ভেতর একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ ঘটার পরে আমাদের চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ সদস্য আহত হন। তারা সবাই চিকিৎসাধীন আছেন।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে আরো তদন্ত করার জন্য আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। আমাদের কাউন্টার টেরোরিজম কাজ করছে। যেহেতু এখানে বোমসদৃশ জিনিস পাওয়া গেছে। সেটা আসলেই এক্সপ্লোসিভ। এসব কেন, কোত্থেকে এলো, কী উদ্দেশ্যে এলো সেটা নিয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। কেন কী কাজে এটি ব্যবহার হতে পারে তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের পেছনে আর কারা সহযোগী ছিল তাদের খুঁজে বের করতে আমরা কাজ করছি।’ জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, যাদের আমরা গ্রেপ্তার করেছি তারা কোনো জঙ্গি গ্রুপের সদস্য নয়। তারা কোনো না কোনো ক্রিমিনাল গ্রুপের সদস্য। ওজন মেশিনসদৃশ বস্তু যা ছিল সেটার ভেতরেই এই এক্সক্লুসিভগুলো ছিল।
Comments